Receive up-to-the-minute news updates on the hottest topics with NewsHub. Install now.

অস্ত্রটা রেখে এসো, সামনাসামনি আমার-613413

March 14, 2018 6:01 PM
40 0
অস্ত্রটা রেখে এসো, সামনাসামনি আমার-613413

এখানেই বসেছিলাম আমরা, যখন ছেলেটি মেরেছিল আমাকে। অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, তোমরা বিশ্বাস করবে কি না জানি না, আমার মনে কিন্তু তার জন্য বিন্দুমাত্র কোনো প্রতিহিংসা নাই, রাগ নাই। এক ধরনের মায়া আছে, করুণা আছে। সে কেন এটা করেছে? বেহেশতে যাওয়ার জন্য। আমাকে যদি মারতে পারে তাহলে সে বেহেশতে যাবে। যেভাবেই হোক এটা তার মাথার মধ্যে ঢুকানো হয়েছে। তুমি চিন্তা করো একজন মানুষ কত দুঃখী হতে পারে। যার জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে আরেকজন মানুষকে হত্যা করে বেহেশতে যাওয়া। এটা কি হতে পারে! পৃথিবীটা কত সুন্দর, জাস্ট তাকিয়ে দেখো চারদিকে। কত সুন্দর মানুষ পৃথিবীতে, কত ভালোবাসা মানুষের মধ্যে। সেই মানুষের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসা পৃথিবীর কিচ্ছুই সে জানে না, কিছুই সে দেখে না। সে মনে করে, ওই মানুষটাকে যদি আমি হত্যা করতে পারি তাহলে আমি বেহেশতে যাব। একজন মানুষের ভেতরে কতটুকু কষ্ট থাকলে এরকম হতে পারে। আমি নিশ্চিত, সে ছেলেটি তো একা না আরো হয়তো ছেলেরা আছে। এখানে হয়তো দাঁড়িয়ে আছে এই মুমেন্টে সেরকম কোনো ছেলে। যে নাকি আমার দিকে তাকিয়ে আছে এবং ভাবছে যে পারলাম না আরেকবার একটা এটেম নিতে হবে। তাই তো? শোনো আমি বলি। যদি সেই ছেলেটি থেকে থাকে তাকে বলি, তোমাদের মধ্যে যদি কোনো বিভ্রান্তি থাকে প্লিজ আমার সঙ্গে দেখা করতে এসো। শুধু অস্ত্রটা বাসায় রেখে এসো। সামনাসামনি আমার সঙ্গে কথা বলো, প্লিজ। তোমার মনে যে বিভ্রান্তি আসে সেটা নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলো। আই লাইক টু নো, আমি শুনতে চাই। কেন তোমার মনের ভেতরে এত কষ্ট?

আমি সেই প্রথম থেকে বলে আসছি আমাকে ক্যাম্পাসে যেতে হবে। ক্যাম্পাসে গিয়ে আমাদের ছেলেমেয়ের সাথে কথা বলতে হবে। তার একটা কারণও আছে। আমি বলি, ওই যে বিল্ডিং (ভবন দেখিয়ে) তার সামনে ছাত্ররা শিক্ষদের উপর হাত তুলেছিল। ২৩ আগস্ট কোন এক বছর আগে ২০১৫ তে । তখন আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আমার ছাত্ররা শিক্ষকের উপর হাত তুলবে। আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। বলি নাই। একবার ভাবলাম যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতে পারে সেখানে থেকে কি হবে চলে যাই। আবার ভাবলাম, চলে গেলে আবার নাটক হবে। আমরা সহ্য করি। আর তো কয়েকটি বছর। আমরা অবসরে চলে যাবো। কাজেই সকাল বেলা আমরা হেটে হেটে আইসিটি বিল্ডিংয়ে ঢুকি, সারাদিন থাকি। যখন অন্ধকার হয়ে যায়, মাথাটা নিচু করে ফিরে যাই বাসাতে। সবকিছু থেকে গুটিয়ে ফেলি নিজেকে। ছাত্র সংগঠন যারা তারা আমার কাছে এসেছে। আমি বলেছি, সরি। আমি তোমাদের যত সংগঠন আছে সব সংগঠনের অফিসে গিয়েছিলাম। এডভাইজার ছিলাম আমি কিন্তু এখন আর এডভাইজার না। তোমরা যদি আমাদের গায়ে হাত তুলতে পারো, তাহলে আমি তোমাদের এডভাইজার না। ছেলেপিলেরা মিনতি করেছে। আমি একেবারে নিষ্ঠুরের মতো বলেছি, না আমি তোমাদের সাথে থাকব না। একেবারেই নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিলাম এবং অপেক্ষা করছিলাম কখন অক্টোবর মাস আসে। কখন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাই। এই ঘটনাটা ঘটার পরে আমি হঠাত্ করে টের পেলাম যে আমি নিশ্চয়ই অনেক বড় নিষ্ঠুরতা করেছি। সেটা বলার জন্য আমি এসেছি যে, দেখো, আমি তোমাদের সাথে আছি, আমি তোমাদের সাথে থাকবো। তোমরা যখন নাটক করবে আমাদের ডাকবে আমরা আবার তোমাদের নাটক দেখতে যাবো। তোমরা যখন গানের অনুষ্ঠান করবে, আমাদের আবার ডেক, আমরা আবার সেই গানের অনুষ্ঠান শুনতে যাবো, তোমরা যখন সায়েন্সের কিছু করবে আমাদের ডেকো আমরা শুনতে যাবে। আমি যে নিষ্ঠুরতা করেছি আমি সেজন্য তোমাদের কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু আমি আশা করি তোমরা নিশ্চয়ই বুঝবে যে একজন শিক্ষক সবচেয়ে বেশি মনে কষ্ট পায় যখন দেখে একজন ছাত্র সেই শিক্ষকের সাথে কোনরকম বেয়াদপি করে কিংবা কোনভাবে তার গায়ে হাত দেয়। কিন্তু আমি জানি তোমরা সেটা আর কখনই করবে না। আমি সেজন্যই ছুটে এসেছি বলার জন্য যে আমি আছি তোমাদের সঙ্গে। তোমাদের সমস্ত ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে আছি।”

উত্স: kalerkantho.com

সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে শেয়ার করুন:

মন্তব্য - 0