Receive up-to-the-minute news updates on the hottest topics with NewsHub. Install now.

গৃহী নারী, কর্মজীবী নারী আর পার্পল-610856

March 8, 2018 7:45 AM
48 0
গৃহী নারী, কর্মজীবী নারী আর পার্পল-610856

নারীর জীবন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা আমাদের সকলের জানা। একদল মনে করেন নারী মাত্রই অবলা। যদিও এই অবলারাই সংসারের সদস্যদের জন্য সাত সকালে উঠে সারাদিন পরিশ্রম করে সবার শেষে বিশ্রাম বিরতি নিতে যায়। পুরুষ মানুষ কর্মক্ষম না হলে তাকে বেকার বলা হয়। লেখাপড়া শেষ করে কোনো নারী চাকুরী করে উপার্জন করুক বা না করুক, তাদের কখনো বেকার বলা যায় কী? তাই যে নারীরা কাজের জন্য ঘরের বাইরে না গিয়েও সারাদিন ঘরের মানুষদের কাজের জন্য সময় ব্যয় করেন, তাদের সবলা না বলে কি করে অবলা বলা যায়!

এই তথাকথিত অবলাদের যদি গৃহী নারী বলি তবে, আজকের দিনে গৃহী নারী জীবন আর স্বাধীন জীবনের মাঝে অন্যতম পার্থক্য হলো, মা-শ্বাশুড়ি-বৌ (গৃহী নারী) কখনোই বলতে পারে না ঘরটা একটু সামলাও, আমি মোড়ের মাথায় কালুর দোকান থেকে চা খেয়ে আসছি...! কিংবা সাত সকালে উঠে কোনো পুরুষ সদস্য কি একজন মা, শ্বাশুড়ি অথবা বাড়ির গিন্নির জন্য এক কাপ ধুমায়িত চা এনে মুখের সামনে ধরে বলে, চিনিটা ঠিক আছে তো? সারাদিনের পারিশ্রমিকবিহীন শ্রমের যাত্রায় নারী জীবনে একজন নারী ২৪ ঘণ্টার কতটুকু সময় শুধু তার নিজের জন্যে রাখে?

কাটাকুটি, রান্নাবান্নার পরে সকলকে পরিবেশনের আগে তারা কি পেট পুরে খেয়ে নেয়? অণু কিংবা যৌথ পরিবারে মাছের মুড়ো, সৌখিন কোনো রান্নার কতটুকু তার শেষ পাতে সযত্নে পরিবেশিত হয়? সারাদিনের পারিবারিক ঝক্কি-ঝামেলা, আবদার, সাংসারিক ঝুট-ঝামেলা সামাল দিতে দিতে ওই মা-শ্বাশুড়ি কিংবা বৌটি নিজেদের শখ পুরণের অবসর পায় তো!

একদল সমালোচক বলেন, সমান অধিকার চাও আবার বাসে-ট্রামে সংরক্ষিত আসনেরও দাবিদার! এদেশে বাসের ৩-৬টি আসন নারীকূলের জন্য সংরক্ষিত থাকে। সেই আসনগুলো হয় উত্তপ্ত ইন্জিনের ওপরে নয়তো ইঞ্জিনের পাশে। মুরগি নয় কবুতরের খোপের মতো ৩টি সীটের বিপরীতে ৪ জনকে বসতে বাধ্য করা হয়। এ যেনো সোনায় মোরা স্বান্তনা। যে নারীকূল তিনবেলা জ্বলন্ত উনুনের আঁচে খুন্তি নাড়ে, তারাই আবার কেন উত্তপ্ত ইঞ্জিনের ওপরে বসতে 'কেন বিরহে ব্যাকুল হবে'!

ভীড়বাসে ওঠার সশয়ও ছাএী কিংবা কর্মজীবি নারীর শুনতে হয় 'ওই মহিলা উঠাবি না'। এবার ধরুন মহিলাটি উঠে পড়ল এবং দুপাশের সিটগুলোর মুখোমুখি একটি আসনও পেয়ে গেলো। ভাবছেন কী শান্তি! আমাদের লোকাল বাসগুলোতে বসে থাকা যাত্রীদের তুলনায় দাঁড়িয়ে থাকা যাএীর সংখ্যা বেশি। তবুও মাঝের পথটুকুতে এক ইঞ্চি জায়গা বাড়ানো হয় না কখনো। সুতরাং ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষদের (সকলে নয়, যে পুরুষরা মেরুদণ্ডহীন) স্পর্শ থেকে বাঁচিয়ে চলাটাই ওই আসনে বসা নারীর জন্য বাকী পথে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। মুখে বলা উত্যক্তকারীকে ইভটিজার বলা যায়। কিন্তু যে ব্যবস্থাগুলো অব্যবস্থাপনায় নিত্যদিন আমাদের উত্ত্যক্ত করে চলেছে? সেই বাসে পার্পেল রং এর সজ্জায় সজ্জিত হয়ে নারী দিবসের র‍্যালি করে ফিরতে ফিরতে মনে হয় এভাবে কতটুকু সোচ্চার হওয়া যায়?

উত্স: kalerkantho.com

সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে শেয়ার করুন:

মন্তব্য - 0