Receive up-to-the-minute news updates on the hottest topics with NewsHub. Install now.

চীন, ভারত ও আমেরিকায় কি নবী এসেছেন?-574682

December 7, 2017 11:26 AM
2 0

অর্থ : অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এলো। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা রাসুলদের অনুসরণ করো। ' (সুরা ইয়াসিন, আয়াত : ২০)

অর্থ : ‌'স্মরণ করো, যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বলল, হে বৎস, আল্লাহর সঙ্গে শরিক কোরো না। নিশ্চয় আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা মহাঅন্যায়। ' (সুরা লুকমান, আয়াত : ১৩)

সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মহান আল্লাহ প্রতিটি জাতির উদ্দেশে পথপ্রদর্শক পাঠিয়েছেন। সেদিকে ইঙ্গিত করে কোরআনে এসেছে,

অর্থ : ‌'আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই এই মর্মে রাসুল প্রেরণ করেছি যে তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুত থেকে দূরে থাকো। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত দিয়েছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো মিথ্যারোপকারীদের কী পরিণতি হয়েছে। ' (সুরা নাহল, আয়াত : ৩৬)

অর্থ : 'তোমার পালনকর্তা জনপদগুলো ধ্বংসকারী নন, যে পর্যন্ত তার কেন্দ্রস্থলে রাসুল প্রেরণ না করেন, যিনি তাদের কাছে আমার আয়াত পাঠ করেন। আমি জনপদসমূহকে তখনই ধ্বংস করি, যখন তার বাসিন্দারা জুলুম করে। ' (সুরা কাসাস, আয়াত : ৫৯)

অর্থ : 'আমি তোমার আগে অনেক রাসুল প্রেরণ করেছি, তাদের কারো কারো ঘটনা তোমার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারো কারো ঘটনা তোমার কাছে বিবৃত করিনি। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো নিদর্শন নিয়ে আসা কোরো রাসুলের কাজ নয়। যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায়সঙ্গত ফয়সালা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মিথ্যাপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ' (সুরা মুমিন, আয়াত : ৭৮)

অর্থ : 'আমি তোমাকে সত্যধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোনো জাতি নেই, যার মধ্যে সতর্ককারী আসেনি। ' (সুরা ফাতির, আয়াত : ২৪)

অর্থ : কাফিররা বলে, 'তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হয়নি কেন?' তোমার কাজ তো (আজাবের ব্যাপারে) ভয় প্রদর্শন করাই। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে পথপ্রদর্শক হয়েছে। (সুরা রাদ, আয়াত : ৭)

তাহলে প্রশ্ন জাগে, ভারতবর্ষে, চীনে, আমেরিকায় ও আফ্রিকায় কোনো নবী এসেছে? বড় বড় সব নবী কেন মধ্যপ্রাচ্যে এসেছেন? কোনো কোনো মানুষ না বোঝে বলে বেড়ান যে নাউজুবিল্লাহ কোরআনে ভুল আছে! কিভাবে? কারণ কোনো বলা হয়েছে, সব জাতির জন্য নবী এসেছে। কিন্ত বাঙালি জাতির জন্য তো কোনো নবী আসেনি! আমেরিকায় তো কোনো নবী আসেনি!

এগুলো হঠকারিতামূলক প্রশ্ন। এসব প্রশ্ন চরম অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত। প্রথম কথা হলো,

অর্থ : ‌'নিশ্চয়ই এই কোরআন একজন সম্মানিত রাসুলের আনীত। ' (সুরা হাক্বকাহ, আয়াত : ৪০)

অর্থ : ‘(কিয়ামতের দিন বলা হবে) হে জিন ও মানব জাতি, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসুলরা আগমন করেনি, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াত বর্ণনা করত ও তোমাদের আজকের এই দিনের মুখোমুখি হওয়া সম্পর্কে সতর্ক করত? তারা বলবে, আমরা নিজ অপরাধ স্বীকার করে নিলাম। বস্তুত পার্থিব জীবন তাদের প্রতারিত করেছে। আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে এ সাক্ষ্যও দেবে যে তারা কাফির ছিল। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৩০)

পক্ষান্তরে এসব আয়াতে যদি ‘রাসুল’ শব্দের আভিধানিক অর্থ গ্রহণ করা হয়, তাহলে আয়াতের মূল অর্থ হলো, প্রত্যেক জাতির জন্য মহান আল্লাহর বাণী প্রচারক ও সতর্ককারী পাঠানো হয়েছে। এই অর্থে বলা যায়, মানবজাতির মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত সব জাতিসত্তার মধ্যে আল্লাহর বাণী প্রচারক ও সতর্ককারী পাঠানো হয়েছে, যদিও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উদ্দেশে পৃথকভাবে নবী পাঠানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘অবিশ্বাসীরা বলে, তার প্রতি [মহানবী (সা.)] তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন? তুমি তো শুধু সতর্ককারী। আর প্রত্যেক জাতির জন্যই সতর্ককারী আছে। ’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ৭)

দ্বিতীয়ত, একসময় গোটা মানবজাতি একজাতি ছিল। পরে মানুষ বহু জাতিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ইরশাদ হয়েছে,

'তালিমে মুহাম্মদী (সা.)-এর বিধান মেতাবেক এই বিশ্বাস করাও জরুরি যে দুনিয়ার বড় বড় জাতি ও দেশ যেমন-চীন, ইরান , হিন্দুস্থানেও রাসুলুল্লাহ(সা.)-এর আগে আল্লাহর প্রেরিত নবীদের আগমন ঘটেছিল। আর এজন্য এসব অঞ্চলের অধিবাসীরা যেসব মনীষীদের পরম শ্রদ্ধা করে ও নিজেদের ধর্মকে যাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে, তাঁদের সততা, সত্যবাদিতার সার্বিক অস্বীকার কোনো মুসলমানই করতে পারে না। এই নিরিখে কোনো কোনো বিজ্ঞজন হিন্দুস্তানের কৃষ্ণ ও রামকে এবং ইরানের জরতস্তকে, এমনকি কেউ কেউ বুদ্ধকেও পয়গম্বর বলে অভিমত প্রকাশ করেছে। মোটকথা তাদের কিংবা অন্য কারোরও নবী হওয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সন্দেহ করা যায় না। কিন্তু প্রকৃতই তারা নবী ছিলেন কিনা, তা নিরূপণ করার মানদণ্ড আল কোরআনেই সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে। ' (সীরাতুন নবী, খ–৬, পৃষ্ঠা-১৬৯, দি তাজ পাবলিশিং হাউজ, প্রকাশ ১৯৯১ইং)

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে। ' (মুসলিম : ১/১৭ হাদিস : ৪৫, আহমাদ ১২৮০১, ১৩৮৭৫) (আধুনিক প্রকাশনী : ১২ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন : ১২)

তিন. 'নীতিবানের সঙ্গ ছাড়া চরিত্র গঠন সম্ভব নয়। ' অন্যদিকে কোরআনে এসেছে,

অর্থ : 'হে আমাদের পালনকর্তা! অতঃপর আমাদের সব গোনাহ মাফ করুন এবং আমাদের সব দোষত্রুটি মুছে দিন, আর আমাদের মৃত্যু দিন নেক লোকদের সঙ্গে। ' (সুরা ইমরান, আয়াত :১৯৩)

Leopold Pospisil একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম The Kapauku Papuans Of West Guinea. পাপুয়া নিউ গিনির একটা অঞ্চলে বসবাসকারী কিছু প্রস্তর যুগে থেকে যাওয়া মানুষদের ব্যপারে এই বইটি লেখা হয়েছে। তাদের বলা হয় কাফাউকু জাতি। এরা পশ্চিমা সভ্যতার প্রভাবমুক্ত ছিল অনেক বছর পর্যন্ত। এরা সর্বপ্রথম ১৯৩৮ সনে পশ্চিমা সভ্যতার সংস্পর্শে আসে। তাদের বেশির ভাগ অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫০০ মিটার উপরে অবস্থিত, যার চারপাশ দুর্গম পর্বতসঙ্কুল আর খাড়া গিরিপথে ঘেরা। ওই বইয়ে তাদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে বলা হয়েছে,

The Kapauku has an interesting world view. If we have to compare their religion versus Islam!

The universe itself and all existence was Ebijata, "designed by Ugatame", the Creator.

উত্স: kalerkantho.com

সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে শেয়ার করুন:

মন্তব্য - 0