Receive up-to-the-minute news updates on the hottest topics with NewsHub. Install now.

জঙ্গিবাদ প্রতিহত করা প্রতিটি-574267

December 6, 2017 11:59 AM
2 0
জঙ্গিবাদ প্রতিহত করা প্রতিটি-574267

মক্কাবাসীর নির্যাতন ও আল্লাহর হুকুমে মক্কা ছেড়ে মদিনায় পাড়ি জমালেও মক্কার প্রতি তাঁর অনুরাগ কমেনি বিন্দুমাত্রও। মক্কার পবিত্র কাবার ছবিই ছিল তাঁর হৃদয়জুড়ে। মক্কাবাসী যখন তাঁকে মক্কা থেকে অন্যায়ভাবে বের করে দিচ্ছিল, তখনো মক্কার ভালোবাসা তাঁকে চুম্বকের মতো টানত। মক্কার মায়া ছাড়তে পারছিলেন না তিনি। মক্কার প্রতি ভালোবাসায় তাঁর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। মক্কা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় পেছন ফিরে বারবার মক্কার দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘আল্লাহর কসম! হে মক্কা, নিশ্চয়ই তুমি সবচেয়ে প্রিয় ও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম স্থান। আমাকে যদি এখান থেকে বের করে না দেওয়া হতো, আমি কিছুতেই তোমাকে ছেড়ে যেতাম না। ’ (জামে তিরমিজি : ৫/৭২২)

একটি মুসলিম দেশের মুসলিম নাগরিকদের রাষ্ট্রের প্রতি ধর্মীয় দায়িত্ব হলো, রাষ্ট্রকে ভালোবাসা এবং এর নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা। ইসলাম আক্রান্ত হলে যেমন প্রতিহত করা উচিত, তেমনিভাবে মাতৃভূমি আক্রান্ত হলেও তা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। সাহাবায়ে কেরাম যেমন অসত্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদের কোরবান করে দিয়েছিলেন, তেমনি দেশপ্রেম ও স্বাধীনতা রক্ষায়ও ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে, দেশের মানুষকে ভালোবাসবে এবং দেশের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখবে, তাদের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে অনেক বড় পুরস্কার রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দুটি চোখ জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। একটি হলো ওই চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে আর আরেকটি হলো যা সীমান্ত পাহারায় বিনিদ্র রজনী যাপন করে। ’ (তিরমিজি : ৪/১৭৫) অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরীদের জন্য জান্নাত অবধারিত। ’ (আবু দাউদ : ৩/৯)

নবীজি (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মানুষের জান-মালকে আরাফার দিনের মতো পবিত্র বলে ঘোষণা করে তা হারাম করে দেন। নবীজি (সা.) ঘোষণা করেন, ‘হে লোক সকল! জেনে রেখো, তোমাদের পরস্পরের জান-মাল, সম্মানের ওপর হস্তক্ষেপ হারাম করা হলো। আজকের এই পবিত্র দিন, এই পবিত্র মাস (জিলহজ), পবিত্র এই শহর (মক্কা) যেমন পবিত্র ও সম্মানিত, তেমনি এগুলোও (অন্যের জান-মাল, সম্মান) সম্মানিত ও পবিত্র। এখানে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে আমার এ বাণী যেন পৌঁছে দেয়। (বুখারি : ১/৩৬) যারা নিরপরাধ মানুষের ওপর আক্রমণ করছে, তাদের ধারণা, এভাবে মানুষ হত্যা করলে কোনো ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই সোজা জান্নাতে যাওয়া যাবে। কখনো না। কোরআনুল কারিম, হাদিসে নবী (সা.) যে কাজটিকে চরমভাবে ঘৃণা করেছেন, সেই (মানুষ হত্যার) কাজটি করে বেহেশতে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না; বরং জাহান্নামই হবে এই ঘাতকদের ঠিকানা। একজন মুমিনকে হত্যা করা তো দূরের কথা, তাকে গালাগাল করাও নিষিদ্ধ। কোনো মুমিনকে হত্যা করা সরাসরি কুফুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি আর তাকে হত্যা করা হলো কুফুরি। ’ (বুখারি : ১/১৯; মুসলিম : ১/১৮)

কোরআনুল কারিম ওই ঘাতকদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নামের ঘোষণা করেছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করল, তার শাস্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম। তার প্রতি আল্লাহর গজব ও অভিশাপ। তিনি তার জন্য ভয়ংকর শাস্তি প্রস্তুত করে রাখবেন। ’ (সুরা নিসা : ৯৩) যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিকারেই মুমিন হয়, তাহলে তার হাতে তো অন্য একজন মুমিন আক্রান্ত হতে পারে না। যদি তার দ্বারা অন্য কোনো মুমিন অনিরাপদ হয়, আক্রান্ত হয়, তাহলে বুঝতে হবে, সে যতই মুমিন দাবি করুক না কেন, প্রকৃতপক্ষে সে মুমিন নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, প্রকৃত মুমিন তো কেবল সে-ই, যার জবান ও হাতের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ। ’ (বুখারি : ১/১১; মুসলিম : ১/৬৫)

প্রশ্ন হলো, তাহলে কি কোনো অমুসলিমকে হত্যা করা বৈধ? কখনো না। মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম, কোনো মানুষকে হত্যা করা ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় অন্যায় ও ঘৃণ্য কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা এবং অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা। ’ (বুখারি : ৫/২২৩০) মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে কোনো মানুষকে হত্যাই ইসলামের দৃষ্টিতে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সব মানবগোষ্ঠীকেই হত্যা করল। ’ (সুরা মায়েদা : ৩২)

অমুসলিমদের অন্যায়ভাবে যারা হত্যা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নবীজি (সা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে হত্যা করল, সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না। ’ (বুখারি, মিশকাত : ২/২৮৬)

চরমপন্থা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মজবুত অবস্থান নেওয়া শুধু সরকার কিংবা বিশেষ দলের কাজ নয়; বরং রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের ওপরই তা কর্তব্য। কোনো সন্ত্রাসী যদি আমাদের লাল-সবুজের পতাকা কিংবা নিরপরাধ মানুষের ওপর আক্রমণ করে, তাহলে রাষ্ট্রের সব নাগরিকের উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করে দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো অন্যায় হতে দেখে, তখনই যেন সে তা হাত দ্বারা প্রতিরোধ করে। আর যদি সে একে প্রতিরোধের ক্ষমতা না রাখে, তাহলে মুখে এর প্রতিবাদ করে। আর এর ক্ষমতাও যদি সে না রাখে তাহলে যেন সে অন্তরে ঘৃণা করে এবং তা প্রতিরোধের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। আর শুধু অন্তরের ঘৃণাতেই সীমাবদ্ধ থাকা ইমানের সর্বনিম্ন স্তর। ’ (মুসলিম : ১/৬৯)

উত্স: kalerkantho.com

সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে শেয়ার করুন:

মন্তব্য - 0