Receive up-to-the-minute news updates on the hottest topics with NewsHub. Install now.

বাংলার মাটিতে সাঁতারে কেউ আমাকে হারাতে পারেনি ...-637607

May 18, 2018 6:33 AM
10 0
বাংলার মাটিতে সাঁতারে কেউ আমাকে হারাতে পারেনি ...-637607

প্রশ্ন : কথোপকথন শুরু করতে চাই আপনার অবিশ্বাস্য এক অর্জনের গল্পে। শুনেছি, বাংলাদেশে সাঁতারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে আপনি কখনো দ্বিতীয় হননি। প্রতিবার প্রথম; প্রতিটিতে স্বর্ণপদক। এটি কি সত্যি?

প্রশ্ন : এই প্রায় দেড় যুগে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ঠিক কতটি পদক জিতেছেন, মনে আছে?

প্রশ্ন : ’৯৬-তে আটকে যাওয়ার পর একটু কি খারাপ লাগে? আর চারটি স্বর্ণপদক জিতলেই তো সেঞ্চুরি হয়ে যেত...

প্রশ্ন : এ তো বলছেন ঘরোয়া সাফল্যের কথা। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাঁতারে বাংলাদেশকে অনেক পদক এনে দিয়েছেন আপনি...

মোশাররফ : এটি খুব দুঃখজনক ব্যাপার। আমার সর্বনাশটি হয়ে যায় আসলে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে যেতে না পারাটাই...

প্রশ্ন : ১৯৮৫ সালে ঢাকা সাফ গেমসে অবশ্য স্বর্ণে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। ঘরের মাঠে স্বাগতিক বাংলাদেশ মোট স্বর্ণপদক জেতে ৯টি; এর মধ্যে আপনারই পাঁচটি। আগের আসরের অপ্রাপ্তি ঘুচিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জটা কি ছিল সেবার?

প্রশ্ন : নিজ দেশের সাফে আপনিই ছিলেন হিরো। পুরো দেশ তখন নিশ্চয়ই আপনাকে নিয়ে মেতে ছিল?

প্রশ্ন : এবার একটু আপনার ‘সাঁতারের প্রথম পৃষ্ঠা’য় একটু যেতে চাই। সাঁতারে আগ্রহ হলো কিভাবে?

প্রশ্ন : প্রাইভেট শিক্ষক সাঁতার শেখাচ্ছেন—ব্যাপারটি বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য মেনে নেওয়া একটু কঠিন ছিল না?

মোশাররফ : আমার বাবার কিন্তু উল্টো উত্সাহ ছিল। কারণ উনি নিজে ছিলেন ক্রীড়াবিদ। তারুণ্যে কলকাতায় সাঁতার কেটেছেন, ওয়াটার পোলো লিগে খেলেছেন; কাবাডি খেলে বেড়াতেন পুরো দেশে। ১৯২০ সালে নিখিল ভারতের লং জাম্প প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন বলেও আমাকে বলেছেন। খেলাধুলা তাই পরিবারেই ছিল। আর দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় ওই এক মাইল সাঁতারে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের হারিয়ে যখন প্রথম হয়ে গেলাম, তখন আমাকে আর পায় কে!

প্রশ্ন : শুরুর দিকে বলেছিলেন যে, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে শেষ যেবার পানিতে নামেন, সেবারও নতুন রেকর্ড করেছিলেন। তখন তাহলে অবসর নিলেন কেন?

প্রশ্ন : যেটি বলছিলেন যে, আপনি তো স্বল্প দূরত্বের সাঁতারু। ওই জেদ পূরণের কাজটি নিশ্চয়ই সহজ হয়নি?

প্রশ্ন : বাংলাদেশের সাঁতারে আপনি অবিসংবাদিত রাজা ছিলেন। এক সাফে পাঁচটি স্বর্ণপদক পেয়েছেন। যদি বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ পেতেন, তাহলে আরো অনেক দূর যেতে পারতেন বলে মনে করেন কি না? ধরুন অলিম্পিক পর্যায়ে?

মোশাররফ : ঢাকা স্টেডিয়ামের সুইমিংপুল আমি টেন্ডার করে লিজ নিয়েছিলাম। ওখানে বাচ্চাদের সাঁতার শেখাচ্ছিলাম। আর ওপরে বানালাম ‘সাঁতার জাদুঘর’। ওখানে আমার সব পদক; সব সার্টিফিকেট রাখিয়ে রাখি। শত শত বাচ্চারা প্রতিদিন আসত সেখানে। ওরা দেখত; উজ্জীবিত হতো। ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া’ অনুষ্ঠানের ডক্টর এনামুল হক সাহেব ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক। উনি আমাকে চিঠি দিলেন যে, আমার সাঁতার জাদুঘরের সব কিছু জাতীয় জাদুঘরে নিতে চান। ওখানে একটি কর্নার করবেন। আমি তখন রাজি হইনি। বলেছি, ‘স্যার, আমি সাঁতার জাদুঘর করলাম এত শখ করে। আপনার জাতীয় জাদুঘরে দিব সব; তবে আরো কিছুদিন পর।’ এখন মনে হয়, কী ভুলটাই না করেছি!

মোশাররফ : আমি খুব তৃপ্ত। সাঁতারে কত কত পদক পেয়েছি, তা আপনাকে বলেছিই। ১৯৭৭ সালে পাই জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার, ১৯৮৬ সালে স্বাধীনতা পদক। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির পুরস্কার পাই ১৯৭৪ ও ১৯৮৫। ১৯৮৫ সাফ গেমসের পর ‘বেস্ট স্পোর্টসম্যান অব সাউথ এশিয়া’ পুরস্কার পাই সাফের সব দেশের সাংবাদিকদের বিবেচনায়। এসব তৃপ্তির তুলনা নেই। সাঁতারের জন্য পৃথিবীর ৭১টি দেশে গিয়েছি। এ কম কথা? আমার বাবাও ছিলেন খুব তৃপ্ত মানুষ। উনি আমাকে বলতেন, ‘বাবা, আমার সন্তানরা এত ভালো আছে সবাই, আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি?’ আমার জীবন নিয়ে, ক্যারিয়ার নিয়েও বাবার মতোই মনে হয়—আমি কি স্বপ্ন দেখছি নাকি?

উত্স: kalerkantho.com

সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে শেয়ার করুন:

মন্তব্য - 0