Receive up-to-the-minute news updates on the hottest topics with NewsHub. Install now.

মহানবী (সা.) এর জীবনে সমঝোতার অনন্য-573865

December 5, 2017 2:35 PM
3 0
মহানবী (সা.) এর জীবনে সমঝোতার অনন্য-573865

হিংসা, বিদ্বেষ, বাগাড়ম্বরতা ও ঝগড়ায় কোনো কল্যাণ নেই। মন্দ আচরণ জীবনে সুফল বয়ে আনতে পারে না । অন্তরকে তৃপ্ত করতে পারে না সম্পর্কচ্ছিন্নতা। সমাজে লোবানের গন্ধ ছড়াতে পারে না বিচ্ছেদের বৈরী হাওয়া। অমিমাংসা মানুষ, সমাজ ও বিশ্বকে নিক্ষেপ করে লয়, পতন আর ধ্বংসের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। সম্পর্কহীন হৃদয় কোনো ‘হৃদয়’ নয়। সমঝোতায় সুখ। সমঝোতায় শান্তি। সমঝোতা মানুষের পারষ্পরিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। সম্পর্ককে জিইয়ে রাখে যুগের পর যুগ। অন্তরে অন্তরে গড়ে ওঠে অদেখা তবে উপলব্ধি জাগ্রত ভালবাসার ক্যানভাস। হৃদয়ের জমিনে বর্ষণ হয় অদৃশ্য তৃপ্তির বারি। সমঝোতা মানুষকে শুদ্ধ গল্পে বাঁচিয়ে রাখে মাটির এ পৃথিবীতে। সমঝোতা নির্মাণ করে একদল সভ্য মানুষ, একটি সভ্য সমাজ ও আলোকিত ভোর। সভ্য মানুষ সমাজ পৃথিবী বিনির্মাণে সমঝোতা অবশ্যম্ভাবী। জগতের মালিক আল্লাহ তাআলা মানুষকে সমঝোতা, পারষ্পরিক সুসম্পর্ক গড়ার জন্য প্রত্যাদেশ নাজিল করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘ তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজেদের পারষ্পরিক সম্পর্ক সঠিকরূপে গড়ে নাও। ’ ( সুরা আনফাল : ০১)

ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৬ষ্ঠ হিজরিতে ১৪০০ সাহাবির এক দল নিয়ে ওমরা পালনের জন্য মক্কার দিকে রওনা হন। হুদায়বিয়া নামক স্থানে গেলে মুশরিকদের দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হন। সেখানে উভয় পক্ষের সম্মতি অনুযায়ী ৬টি শর্ত আরোপপূর্বক সন্ধি চুক্তি হয়। প্রত্যক্ষভাবে সন্ধিগুলো ছিল মুসলমানদের বিপক্ষে। প্রসিদ্ধ অনেক সাহাবি এই সন্ধি চুক্তির বিরোধী ছিলেন। কিন্তু ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, এই সন্ধির মাধ্যমে পরবর্তীতে মক্কা বিজয় হয়েছিল। ইসলামের চিরন্তন শান্তির পতাকা খোদার আকাশে উড্ডীন হয়েছিল। সন্ধি সমঝোতা একটা জাতিকে পৃথিবী বিখ্যাত বিজয় দিয়েছে। পৃথিবীর বাতাসে ছড়িয়ে দিয়েছে আতর আতর সুভাস। পৃথিবী শহরের অলি গলিতে স্থাপন করেছে সভ্যতার বিদ্যানিকেতন। পৃথিবীকে শান্তি সমৃদ্ধিতে ভরে দিয়েছে। সেই সন্ধির কল্যাণে পৃথিবী আজও হাসে পুষ্পের হাসি। বাগানের ফুল আজও সৌরভ ছড়ায়। শুদ্ধতা ও সভ্যতার আলোচনা হয় গোল টেবিলে। সন্ধিতেই পবিত্র জীবন নিহিত। সন্ধিতেই অগাধ কল্যাণ। সন্ধিকে ভালোবেসে হৃদয়ে ধারণ করে জাতি ভাসতে হবে সুখের ভেলায়। প্রশান্ত চিত্তে ঘুরতে পারবে পৃথিবীর জনপদে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সন্ধির শিক্ষা দিয়েছেন বাস্তবসম্মতভাবে। আল্লাহ বলেন, ‘সন্ধি সর্ববস্থায় উত্তম। ’ ( সুরা নিসা : ১২৮)

মানুষের সলাপরামর্শের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘লোকদের গোপন সলা-পরামর্শে প্রায়ই কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে না। অবশ্য কেউ যদি গোপনে কাউকে দান-খয়রাত করার জন্য উপদেশ দেয়, অথবা কোনো ভাল কাজের জন্য অথবা লোকদের পরষ্পরের কাজ কর্মের সংশোধন করার জন্য কাউকে কিছু বলে তবে তা নিশ্চয় ভালো কথা। আল্লাহর সন্তোষ লাভের জন্য যে কেউ এমন করবে তাকে আমি বিরাট প্রতিদান দেব। ’ ( সুরা নিসা : ১১৪)

ভালো কাজ অন্তরে প্রশান্তি আনে। হৃদয়ে সুখের দোলা দেয়। মানুষের পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে অনুপ্রাণিত করে। সুন্দর কাজেরা জগতের ফ্রেমে সুভাসিত প্রাণ নিয়ে বন্ধি থাকে অনেকদিন। তাদের কর্ম ও তাদের মানুষ স্মরণ রাখে যুগ থেকে যুগান্তর পর্যন্ত। দুটি বিরোধী মনকে এক ডুরে গেঁথে দেওয়া পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাজের মধ্যে একটি। মানুষের মাঝে ন্যায়ের সঙ্গে সমঝোতা করে দেওয়া সদকা। সদকায় সওয়াব। সদকায় আমলের পাল্লা ভারি হয়। প্রাপ্তির ঝুলি পূর্ণ হয়। সদকা চিরস্থায়ী জীবনে সুন্দর বাসস্থান তৈরী করে। সুতরাং দুই ব্যক্তির মাঝে ইনসাফ সম্মত সমাঝোত বিধান তৈরি করে সদকার সওয়াব নিজের আমলের ডায়েরিতে যুক্ত করা কর্তব্য। হাদিসে এসেছে, ‘ দুই ব্যক্তির মাঝখানে ইনসাফ সহকারে সমাঝোতা স্থাপন করে দেওয়া সদকা হিসেবে গণ্য। ’ (বুখারি, হাদিস : ২৯৮৯)

সমঝোতা জীবন সমাজ ও পৃথিবীর জন্য অতি জরুরি। সমঝোতা জগতকে আলোকদীপ্ত করতে পারে। আলোর ফল্গুধারা বহমান করতে পারে মানুষের হৃদয় মিনারে। সমঝোতাকে ইসলাম দেখেছে অনেক গুরুত্বের চোখে। গর্বের ধর্ম ইসলাম পরষ্পরের মধ্যে সমঝোতা বিধান স্থাপন করে দিতে মানুষকে বিভিন্ন ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে। পরষ্পরের মধ্যে সমঝোতা করে দেবার লক্ষে মিথ্যার আশ্রয় নিতেও অনুমোদন দিয়েছে ইসলাম। অথচ ইসলামে মিথ্যার কোন স্থান নেই। মিথ্যাকে সমস্ত ধ্বংসের মূল বলে ঘোষণা করেছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, উম্মে কুলসুম (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কল্যাণ লাভ করার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি মিথ্যা কথার মাধ্যমে পরষ্পরবিরোধী দুই ব্যক্তির মধ্যে সন্ধি স্থাপন করে সে মিথ্যুক নয়। ’ (বুখারি, হাদিস : ২৬৯২, মুসলিম, হাদিস : ২৬০৫)

উত্স: kalerkantho.com

সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে শেয়ার করুন:

মন্তব্য - 0