Receive up-to-the-minute news updates on the hottest topics with NewsHub. Install now.

মুসলিম শাসনামলে কৃষি উন্নয়ন-574276

December 6, 2017 12:52 PM
2 0
মুসলিম শাসনামলে কৃষি উন্নয়ন-574276

হাদিস শরিফেও জমি চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ভূমি যেন পতিত অবস্থায় না থাকে, সে জন্য নবীজি (সা.) বলেন, ‘যার কোনো জমি আছে, সে যেন তা চাষাবাদ করে। অথবা অন্য ভাইকে দান করে দেয় (তবুও যেন অনাবাদি না থাকে)। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৯৩)

সালফে সালেহিন তথা সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িন কৃষি উন্নয়নের প্রতি খুব মনোযোগী ছিলেন। হজরত ওসমান (রা.)-কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি বৃদ্ধ বয়সে বৃক্ষ রোপণ করছেন কেন? তিনি জবাব দেন, ‘সৎ কর্মরত অবস্থায় আমার মৃত্যু হওয়া ফাসাদরত অবস্থা থেকে উত্তম। ' একবার আবু দারদা (রা.) আখরোটগাছ রোপণ করছিলেন। তখন তাঁকে বলা হয়, আপনি বৃদ্ধ বয়সে এটা কেন লাগাচ্ছেন? অথচ এর ফল পেতে ২০ বছর (অর্থাৎ অনেক) সময় লাগবে। তিনি জবাব দেন, আজর তথা প্রতিদান ছাড়া আমার অন্য কোনো চাহিদা নেই। ’ (নুজহাতুল আনাম, পৃ. ১৮৫)

আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) ধনী হওয়া সত্ত্বেও মাঠে কোদাল নিয়ে নিজ হাতে পানি সেচের ব্যবস্থা করে দিতেন। তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) সর্বপ্রথম মদিনার জমিতে গম চাষ করেন। এত বিশাল এলাকাজুড়ে চাষাবাদ করেন যে উৎপন্ন শস্য মদিনাবাসীর এক বছরের খোরাকি হয়ে যেত। ফলে সিরিয়া থেকে খাদ্যশস্য আমদানি নিষ্প্রয়োজন হয়ে পড়ে। (তারিখে দিমাশক : ২৫/১০২)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) চাষাবাদকে আত্মমর্যাদাময় কর্ম হিসেবে গণ্য করতেন। (আততারাতিব ইদরাকিয়্যাহ : ২/৫১)

অথচ পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আজকের নতুন প্রজন্ম কৃষিকে নিম্নমানের পেশা হিসেবে গণ্য করে। যে কর্মের ওপর ভিত্তি করে মানবসভ্যতা টিকে আছে, তাকে অবজ্ঞা করে। ফলে মুসলিম দেশগুলোর ভূমি চাষাবাদের জন্য সবচেয়ে বেশি উর্বর হওয়া সত্ত্বেও খাদ্যপণ্যে আমাদের অমুসলিমদের কাছে হাত পাততে হয়। তাদের থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হচ্ছে। এই পরনির্ভরতা কবে শেষ হবে?

এসব কাজে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়। কৃষক-বণিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হজরত সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস (রা.) ‘নহরে সাদ’ খননের প্রস্তুতি নেন। এ জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। খননকার্য কিছুদূর এগোনোর পর বিশাল এক পাহাড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তখন খননকার্য বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস সাকাফি (তাঁর যুগে) আবার খননকার্য শুরু করেন। তিনি এবার তত্ত্ববধায়কদের নির্দেশ দেন যে তোমরা দেখো, খননকর্মীদের দৈনিক খাবারের মূল্য কত? যদি খাদ্যের ওজন একজন শ্রমিকের খননকৃত পাথরের ওজনের সমপরিমাণও হয়, তবুও তোমরা খননকার্য বন্ধ করবে না। (সেই পরিমাণ মূল্য আমি দেব) পরবর্তী সময়ে বিশাল অর্থ ব্যয় করে নহরটি খনন করা হয়। (মুজামুল বুলদান : ৫/৩২১)

খলিফারা কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য অনুদান দিতেন। কৃষি উৎপাদন করতে গিয়ে যেন অর্থ সংকটে না পড়তে হয়, এ জন্য কর মওকুফ করে দিতেন। অনেক স্থানে শস্য ঘরে তোলার পর কর আদায় করা হতো। হজরত ওমর (রা.) বলতেন, তোমরা কৃষকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। (অর্থাৎ তাদের প্রতি জুলুম কোরো না। ) হজরত আলী (রা.) কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশনা প্রেরণ করেন যে তোমরা এক দিরহাম করের জন্য কৃষককে প্রহার কোরো না। খলিফা জিয়াদ বিন আবিহ কর্মচারীদের বলেন, তোমরা কৃষকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে। কেননা তারা যত দিন মোটা-তাজা থাকবে, তোমরাও তত দিন মোটা-তাজা থাকতে পারবে। (অর্থাৎ সুখে থাকবে। ) (তাসহিলুন নজর, পৃ. ১৫৯)

পূর্বসূরিদের কৃষিকর্মে এত মনোযোগিতার ফলে আমরা দেখতে পাই যে তাদের প্রতিদিনের খাবার নিজেরাই উৎপাদন করতেন। মুসলিম বিশ্বের খাদ্যচাহিদা নিজেদের ভূমিতেই যথেষ্ট ছিল। জনৈক ইতিহাসবিদ বলেন, ‘তদানীন্তন মুসলিম বিশ্ব বাইরে থেকে খাদ্যসামগ্রী আমদানি করেছিল। এই তথ্য আমি কোথাও খুঁজে পাইনি। ’ (আহমদ আমিন, জহলুল ইসলাম : ২/২৪৬)

উত্স: kalerkantho.com

সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে শেয়ার করুন:

মন্তব্য - 0