Receive up-to-the-minute news updates on the hottest topics with NewsHub. Install now.

যারা আকাশ থেকে আসা খাবার খেয়েছে-588486

January 12, 2018 2:52 AM
45 0
যারা আকাশ থেকে আসা খাবার খেয়েছে-588486

হাওয়ারিদের [ঈসা (আ.)-এর অনুসারী] দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হজরত ঈসা (আ.) দোয়া করেন : ‘হে আল্লাহ, আমাদের পালনকর্তা! আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ১১৪) হজরত ঈসা (আ.)-এর দোয়ার জবাবে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। কিন্তু যে ব্যক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অন্য কাউকে দেব না।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ১১৫)

হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ঈসা (আ.)-এর সঙ্গীরা তাঁর কাছে আসমানি খাবার প্রার্থনা করে, তখন তিনি পশমের বস্ত্র খুলে কালো রঙের পায়জামা পরিধান করেন। অতঃপর পায়ের সঙ্গে পা, গোড়ালির সঙ্গে গোড়ালি ও পদদ্বয়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিগুলো একত্রিত করে দাঁড়ান। অতঃপর ডান হাত বাঁ হাতের ওপর রাখেন। তারপর মাথা নিচু করে বিনম্র হয়ে ক্রন্দন করে অশ্রু দিয়ে দাড়ি মোবারক সিক্ত করে দোয়া করেন—হে আল্লাহ! আমাদের রব! আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। অতঃপর দুটি মেঘ খণ্ডের মাঝে গোলাকার রক্তিম বর্ণের একটি দস্তরখান অবতীর্ণ হয়। মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেছে। হজরত ঈসা (আ.) তখন দোয়া করেন, হে আল্লাহ! একে রহমত হিসেবে নির্ধারণ করুন। আমার রবের পরীক্ষার বিষয় করবেন না। আল্লাহ তাআলা তাঁর দোয়া কবুল করেন। অতঃপর রুমাল দিয়ে আবৃত খাঞ্চা হজরত ঈসা (আ.)-এর সামনে অবতীর্ণ হয়। তিনি তখন সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। হাওয়ারিও তাঁর সঙ্গে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। তাঁরা তাতে এমন সুগন্ধি অনুভব করেন, যা এর আগে কখনো অনুভব করেননি। হজরত ঈসা (আ.) বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অধিক আবেদ ও পুণ্যবান, সে তা খোলো। আমরা তা থেকে খাব ও আল্লাহর প্রশংসা করব। (তাফসিরে কুরতুবি)

বনি ইসরাইলের ১২ জন সর্দার আমালেকা গোত্রের কয়েদখানা থেকে মুক্ত হয়ে ইউশা বিন নুন ও কালিব বিন ইউকান্না ছাড়া অন্যরা সবাই স্বজাতির কাছে সব বলে দেয়, অথচ তাদের সব কথা মুসা (আ.)-এর কাছে বলতে বলেছিলেন। তারা মুসা (আ.)-কে গিয়ে বলল, ‘আপনি ও আপনার পালনকর্তা যান ও উভয়ে যুদ্ধ করুন। আমরা এখানে বসলাম।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ২৪) আল্লাহ তাআলা তাদের এ উক্তির ফলে অসন্তুষ্ট হয়ে ময়দানে ‘তিহ’ (সিনাই উপত্যকায়) যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই স্থানটি ছিল উদ্ভিদ, বৃক্ষলতা ও পানিবিহীন এক শুষ্ক মরুভূমি। তারা ‘তিহ’ ময়দানে একত্রিত হয়ে আবেদন করে। হে মুসা! সেখানে আমাদের আহারের ব্যবস্থা কিভাবে হবে? তখন আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য মান্না ও সালওয়া নামের আসমানি খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের জন্য মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ করেছি।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৫৭)

উত্স: kalerkantho.com

সামাজিক নেটওয়ার্কের মধ্যে শেয়ার করুন:

মন্তব্য - 0