ইসলামই নারীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল-611002

March 8, 2018 5:12 PM

28 0

ইসলামই নারীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল-611002

পর্দা কি নারী উন্নয়নের একমাত্র অন্তরায়? এর উত্তরে নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, 'উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত ভগ্নীদের সহিত দেখা সাক্ষাৎ হইলে তাঁহারা প্রায়ই আমাকে বোরকা ছাড়িতে বলেন। বলি, উন্নতি জিনিসটা কী? তাহা কি কেবল বোরকার বাহিরেই থাকে? যদি তাই হয়, তবে কি বুঝিব যে, জেলেনী, চামারনী, ডুমুনী প্রভৃতি স্ত্রীলোকেরা আমাদের অপেক্ষা অধিক উন্নতি লাভ করিয়াছে?' (মতিচূর প্রথম খণ্ড, বোরকা : ৫৯-৬৩)

'নারীবাদী হয়েও কেন হিজাব ও বোরকা পরেন?' এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়েমেনের বিশ্ববিখ্যাত নারীবাদী নেতা, নোবেল বিজয়ী তাওয়াক্কুল কারমান আরো সুন্দর করে বলেছেন : 'Man in the early times was almost naked, and as his intellect evolved he started wearing clothes......It’s the removal of clothes again that is regressive back to ancient times.' অর্থাৎ আদিম যুগে মানুষ থাকত প্রায় নগ্ন হয়ে। তার বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সে পোশাক-পরিচ্ছদ পরতে শুরু করে। আজ আমি যা হয়েছি তা মানুষের অর্জিত ধ্যান-ধারণা ও সভ্যতার সর্বোচ্চ পর্যায়, এটা পশ্চাদ্গামিতা নয়। পোশাক-পরিচ্ছদ অপসারণ সেই আদিম যুগে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা। সেটাই পশ্চাদ্গামিতা।' (উইকিপিডিয়া)

ইসলাম কি নারী উন্নয়ন ও প্রগতির পথে বাধা? এর উত্তর শুনুন বেগম রোকেয়ার ভাষায়- 'জগতে যখনই মানুষ বেশি অত্যাচার-অনাচার করিয়াছে, তখনই এক-একজন পয়গম্বর আসিয়া দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করিয়াছেন। আরবে স্ত্রী জাতির প্রতি অধিক অত্যাচার হইতেছিল; আরববাসীগণ কন্যা হত্যা করিতেছিল। তখন হযরত মুহাম্মদ কন্যাকুলের রক্ষকস্বরূপ দণ্ডায়মান হইয়াছিলেন। তিনি কেবল বিবিধ ব্যবস্থা দিয়েই ক্ষান্ত থাকেন নাই, স্বয়ং কন্যা পালন করিয়া আদর্শ দেখাইয়াছেন। তাহার জীবন ফাতেমাময় করিয়া দেখাইয়াছেন- কন্যা কিরূপ আদরণীয়া। সে আদর, সে স্নেহ জগতে অতুল। আহা! তিনি নাই বলিয়া আমাদের এ দুর্দশা।' (অর্ধাঙ্গী, মতিচূর, প্রথম খণ্ড-৪৮) নোবেল পুরস্কারের তালিকায় ওঠা পৃথিবীবিখ্যাত কবি ও লেখিকা ড. কমলা সুরাইয়াকে (কমলা দাস) প্রশ্ন করা হয়েছিল- 'মানুষ মনে করে আপনার ইসলাম গ্রহণের পেছনে একজন পুরুষের হাত রয়েছে।' কমলা দাস বলেছিলেন, 'অবশ্যই! ঠিকই শুনেছেন। আমার মুসলমান হওয়ার পেছনে অবশ্যই একজন পুরুষের হাত রয়েছে। তিনি হলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। এই মহামানবের শিক্ষাই আমার জীবন বদলে দিয়েছে। (ইমানজাগানিয়া সাক্ষাৎকার, ৪ : ৩৭৯)

বলা হয়, নারীর ক্ষমতায়ন হলেই নারী নির্যাতন কমবে। আসলেই কি তাই? বর্তমান বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের স্বর্ণযুগ চলছে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান, স্পিকার, কৃষিমন্ত্রী- সবাই নারী। রয়েছেন একাধিক নারী প্রতিমন্ত্রী। বিচারালয় থেকে স্থানীয় সরকার- সর্বত্রই নারীর জয়জয়কার। নারীর ক্ষমতায়নের এ স্বর্ণযুগেও নারী নির্যাতন কমছে, নাকি ক্রমেই বাড়ছে? ঘরের বাইরে গিয়ে নারী কি পেয়েছে তার নিরাপত্তা? ক্ষমতায়ন হলেই যদি নারীর নিরাপত্তা হবে তাহলে তো এখন বাংলাদেশে নারী নির্যাতন শূন্যের কোটায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বাড়ছে নারী নির্যাতন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সারা দেশে এক হাজার ১২৭টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় এক হাজার ২৪৫টি। এপ্রিলে এক হাজার ৯৯৮, মে মাসে দুই হাজার ৬৯, সেপ্টেম্বরে দুই হাজার ৩১৭ জন নারী নির্যাতনের শিকার। (কালের কণ্ঠ, ২৫-১১-২০২৪) সম্প্রতি প্রকাশিত এক তথ্যে দেখা গেছে, এক বছরে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের মাধ্যমে নির্যাতিত হয়েছে ৪৪ জন নারী। তাদের ৪০ জনই নির্যাতিত হয়েছে পুলিশের দ্বারা। (প্রথম আলো, ১৬-০৫-২০১৪)

ইসলাম পরিবারকেই নারীর প্রধান কর্মক্ষেত্র বলেছে। কিন্তু ইদানীং কেউ কেউ বলছে, 'ঘরের কাজ নারীর জন্য সম্মানজনক নয়।' তাহলে সৌদি আরবে গিয়ে নারী শ্রমিকরা কী করবে? নিযুক্ত হবে অন্য দেশের মানুষের গৃহকর্মে। অন্য দেশের মানুষের গৃহকর্ম করলে তা সম্মানজনক আর নিজের দেশে থেকে সন্তানকে মমতা দিয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নেওয়া অপমানজনক!

হ্যাঁ, প্রয়োজনে নারী ঘরের বাইরে যাবে পর্দার সঙ্গে। মানবকুলের অর্ধেক প্রায় নারীগোষ্ঠীর শিক্ষার মৌলিক চাহিদা মেটাতে নারী শিক্ষক প্রয়োজন। মহিলাদের চিকিৎসা চাহিদা মেটাতে মহিলা ডাক্তার প্রয়োজন। তবে তার শিক্ষাঙ্গন, যানবাহন, কর্মক্ষেত্র হবে নিরাপদ ও নারীবান্ধব। মেডিক্যাল কলেজে নারীদের জন্য পৃথক শিফট। মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে ছাত্রীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা। যেখানে শিক্ষক, পরীক্ষক সবাই হবেন নারী। হাসপাতালে নারীদের জন্য থাকুক পৃথক ওয়ার্ড। শত বছর আগেই তো বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, 'কেহ কেহ বলেন যে, ঐ উচ্চশিক্ষা লাভ করিতে হইলে এফএ, বিএ পরীক্ষার জন্য পর্দা ছাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হইতে হইবে। এ যুক্তি মন্দ নহে! কেননা, আমাদের জন্য স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া এবং পরীক্ষক স্ত্রীলোক হওয়া কি অসম্ভব? স্বতন্ত্র স্কুল-কলেজ হইলে যথাবিধি পর্দা রক্ষা করিয়াও উচ্চশিক্ষা লাভ হইতে পারে।' (মতিচূর, পৃষ্ঠা : ৫৯) পৃথক নারীবান্ধব শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রের দাবি উঠেছে ০৪-১২-২০১৪ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত 'উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও সকল প্রকার সহিংসতামুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই' শীর্ষক মতবিনিময় সভায়ও। নারী নির্যাতন, বৈষম্য, নিপীড়ন ও সহিংসতামুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে নারীবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ। (প্রথম আলো : ৫-১২-২০১৪)

উত্স: kalerkantho.com

বিভাগ পাতা

Loading...