নির্বাচনে না এলেও নিবন্ধন থাকবে বিএনপির!

March 11, 2018 6:07 PM

30 0

নির্বাচনে না এলেও নিবন্ধন থাকবে বিএনপির!

দশমের মতো একাদশ সংসদ নির্বাচনেও অংশ না নিলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-বিতর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ক্ষমতাসীন দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা ইতোমধ্যে বলেছেন এবারো নির্বাচন বর্জন করলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও টেলিভিশনের টকশোতেও এ নিয়ে প্রায়শই বিতর্ক করছেন আলোচকরা। পরপর দুবার নির্বাচনে অংশ না নিলে আসলেই কি বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে? দেশের বিদ্যমান সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) কী বলে?

বিষয়টি সম্পর্কে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও এক সময় নির্বাচন কমিশনের আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা ড. শাহ্দীন মালিক গতকাল রবিবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “সংবিধানে বড় দাগে কতগুলো কথা বলা আছে, একেবারে সুস্পষ্ট কিছু নেই। নিবন্ধন বাতিলের কথা বলা হয়েছে আরপিও’তে। এবারো বিএনপি নির্বাচনে না গেলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে, সরকারি দলের কারো কারো এ ধরনের বক্তব্য ছেলেমানুষি। আমি কথাটা এ অর্থে বলছি যে বিএনপি যদি নির্বাচনে না-ও আসে তা হলে নিবন্ধন বাতিল ঠেকানোর জন্য যে কোনো দু’-একটি আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রার্থী দিলেই হলো। আইনে বলা আছে— পরপর দুবার অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিল হবে, কিন্তু তিনশ আসনেই প্রার্থী দিতে হবে এমন কোনো কথা বলা নেই। এমন বহু দল আছে যারা দু’-চারটি আসনে প্রার্থী দেয়। কাজেই বিএনপিও এরকম দু’-একটি আসনে প্রার্থী দিয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা কাটাতে পারে।”

আরপিও’টি আইন কি-না, কিংবা এ সংক্রান্ত পৃথক কোনো আইন আছে কি-না বা আইনের প্রয়োজন আছে কি-না; সাধারণ্যের কারো কারো এমন প্রশ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ্দীন মালিক বলেন, “আরপিওটি-ই আইন। কারণ আমাদের সংবিধান পাস হয় ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে। ’৭৩ এ প্রথম সংসদ নির্বাচন হয়। ’৭৩ এর এপ্রিল থেকে আইন পাস হতে শুরু করেছে সংসদে। ’৭২ থেকে ’৭৩ পর্যন্ত বলা ছিল- সংসদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি আইন করতে পারবেন, রাষ্ট্রপতির তখনকার আদেশগুলো আইন। তখন সেগুলোকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার’ বলা হতো। পরবর্তীতে এরকম যে কয়টি আইন বলবত্ ছিল আরপিও সেগুলোর অন্যতম।”

সেই হুদা কমিশনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন গতকাল ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আইনে আছে ‘মে’, অর্থাত্ হতে পারে; ‘শ্যাল’ বা ‘হয়ে যাবে’ এমন কথা বলা নেই। তা ছাড়া বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত এবারো নির্বাচনে অংশ না নেয়, সেক্ষেত্রেও দলটির নিবন্ধন বাতিল করতে চাইলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রথমে দলটিকে নির্বাচন কমিশনের শোকজ বা কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে হবে, তারপর এর ওপর শুনানি হবে, এরপর কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তও কিন্তু চূড়ান্ত নয়। কাজেই এবারো নির্বাচনে না গেলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হতে পারে, না-ও হতে পারে। কারণ নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে বিএনপির দাবি যদি যৌক্তিক বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হয় তাহলে নিবন্ধন বাতিল হবে না।”

উত্স: ittefaq.com.bd

বিভাগ পাতা

Loading...