হজে যাওয়ার আগে করণীয়...-655568

July 8, 2018 9:48 AM

12 0

হজে যাওয়ার আগে করণীয়...-655568

এক. আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা আদায় করা। হজে যাওয়ার সার্বিক সামর্থ্য ও সক্ষমতা লাভ করা একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামত। অনেক মানুষ হজ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বুকে নিয়েই কবরে চলে যান। সুতরাং এই মহান সৌভাগ্য ও নেয়ামতের ওপর আল্লাহ তাআলার একনিষ্ঠ শুকরিয়া আদায় করা একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তাহলে তোমাদের আরো বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম : ৭) অন্যত্র বলেন, ‘আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা বাকারা : ১৫২)

দুই. হজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম একটি। অতএব, হজ আদায়ে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে সেই মহান কর্মের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মর্যাদা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। হজের ভেতর শরিয়তের অনেক মৌলিক বিষয় শামিল। আল্লাহ তাআলা নবী ইবরাহিম (আ.)-কে বলেছিলেন, ‘মানুষের মধ্যে হজের জন্য ঘোষণা প্রচার করো। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌঁছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময়।’ (সুরা হজ : ২৭-২৮)

তিন. হজের সফর শুরু করার আগেই প্রিয় নবী (সা.)-এর এই হাদিস মনোযোগ সহকারে পাঠ করে নেওয়া। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এক ওমরাহ পরবর্তী ওমরাহ পর্যন্ত (সগিরা) গুনাহগুলো মুছে দেয় আর হজে মাবরুরের প্রতিদান জান্নাত বৈ কিছু নয়।’ (বুখারি : ১৬৮৩, মুসলিম : ১৩৪৯)

এই হাদিস সামনে রেখে হজ আদায়ে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে যে হজে মাবরুর কী? নিজের হজকে কিভাবে হজে মাবরুরে রূপান্তরিত করা যায়? বস্তুত হজে মাবরুরের সংজ্ঞা জেনে তা কিভাবে অর্জিত হয়, সেই ব্যবস্থা এখন থেকেই গ্রহণ করতে শুরু করা। উল্লেখ্য, হজে মাবরুরের সংজ্ঞা নিয়ে একাধিক অভিমত পাওয়া যায়। যেমন—সব রকম লোকদেখানো, অহংকার প্রদর্শন, অন্যায় ও পাপাচার থেকে মুক্ত হজ। কারো মতে, মকবুল বা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হজ আর কারো ব্যাখ্যায়, যে হজের পর মানুষ আগেকার সব ধরনের অবৈধ কর্ম ও গুনাহ থেকে নিবৃত্ত হয়ে যায়, সেটাই হজে মাবরুর। (ফাতহুল বারি)

চার. নিয়ত শুদ্ধ করে নেওয়া। ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (বুখারি : ১) সুতরাং এটি নিশ্চিত করতে হবে যে হজ শুধু আল্লাহ তাআলার হুকুম পালন ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য, পার্থিব কোনো গরজ এর পেছনে থাকতে পারে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তাদের এ ছাড়া কোনো নির্দেশ করা হয়নি যে তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।’ (সুরা বায়্যিনা : ৫)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘অতএব যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’ (সুরা কাহফ : ১১০)

উত্স: kalerkantho.com

বিভাগ পাতা

Loading...